তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান

বছর দুয়েক আগে ‘আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেটিভ পার্টনারশিপ’ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা জেলার সাভারে ৩০টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কাজ শুরু করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। এই প্রকল্পের কাজ হলো তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত খবর রাখা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সেভ দ্য চিলড্রেন কার্যালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ের ফলাফল উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক (অ্যাডভোকেসি, কমিউনিকেশনস অ্যান্ড নলেজ ম্যানেজমেন্ট) আফরোজা শারমিন ও উপব্যবস্থাপক (সোশ্যাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি) মো. মাসুদুর রহমান।

জাতীয় পর্যায়ের শিশু সংগঠন এনসিটিএফের আদলে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে একেকটি সংগঠন গড়ে তোলা হয়। এই সংগঠনগুলোর কাজ বিদ্যালয়ে যেকোনো অসংগতি, বিশেষ করে নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত পয়োনিষ্কাশনের যে সমস্যার কথা শিক্ষার্থীরা সরাসরি তুলে ধরতে পারছে না তা স্কুলপ্রধান ও পরিচালনা পর্ষদের কাছে তুলে ধরা। ভয়েস নামের ওয়েব অ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের কথা জানাতে পারবে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও সেই অ্যাপ থেকেই অভিযোগগুলো জেনে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়, সে বিষয়ে সরকার ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর মাধ্যমে তা নিয়মিত মনিটর করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, ২০১৪ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত ২৬ হাজার শিক্ষার্থী এই প্রকল্পের সুবিধা পায়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ৩০টি বিদ্যালয়ের পায়খানায় সাবান, ১০টি বিদ্যালয়ে ডাস্টবিন, ৯টি বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ, ৭টি বিদ্যালয়ে নতুন পায়খানা স্থাপন, ৭টি বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যসম্মত নারী স্বাস্থ্যের উপকরণ প্রদান এবং ৬টি বিদ্যালয়ে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। চলতি মাসের শেষ নাগাদ দেশের সব বিদ্যালয়ে ব্যবহারের জন্য গুগলের প্লেস্টোরে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ প্রকাশ করার পরিকল্পনা আছে তাদের।

আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেটিভ পার্টনারশিপ প্রকল্পে সহযোগিতা করেছে ভিলেজ এডুকেশন রিসোর্স সেন্টার (ভার্ক), ম্যাস লাইন মিডিয়া সেন্টার (এমএমসি), সেন্টার ফর সার্ভিসেস অ্যান্ড ইনফরমেশন অন ডিজঅ্যাবিলিটি (সিএসআইডি), ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ) ও এমপাওয়ার সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড।

*

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post